সেবার বিপরীতে অনিয়ম, প্রশ্রয় দেবেনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কতৃপক্ষ - দৈনিক বরিশাল ২৪ দৈনিক বরিশাল ২৪সেবার বিপরীতে অনিয়ম, প্রশ্রয় দেবেনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কতৃপক্ষ - দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২১, ২০১৯ ৭:০৮ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

সেবার বিপরীতে অনিয়ম, প্রশ্রয় দেবেনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কতৃপক্ষ

৬৪

আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড। সময় দুপুর বারটা। ওয়ার্ডের গেইটে তালা ঝুলছে। ভেতরে প্রবেশের জন্য দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন রোগীর স্বজন। কিন্তু কঠোর অবস্থানে সিকিউরিটি গার্ড।

এখন ভেতরে যাওয়ার নিয়ম নেই- সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি। তবে কঠিন হৃদয়ের এই মানুষটাই কিছুক্ষণের মধ্যে হয়ে গেলেন একবারে সরল! পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি তার হাতের মধ্যে কিছু টাকা গুজে দিয়েই ঢুকে গেলেন ভেতরে।

বোঝার বাকি রইল না, তার এই কঠোরতা কিংবা নিয়মের বিষয়টি সবার জন্য নয়। শুধু ২৮ নম্বর ওয়ার্ড নয়, প্রায় সব ওয়ার্ডেই চলছে এ অনিয়ম। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীর সঙ্গে দেখা করতে হলে স্বজনদের আসতে হয় নির্দিষ্ট সময়ে।

এ সময়ের আগে-পরে স্বজনদের ওয়ার্ডে যাওয়ার নিয়ম নেই। আর এটিকেই পুঁজি করে রমরমা বাণিজ্য করছে ওয়ার্ডের গেইটে দায়িত্বরতরা। বাণিজ্যের এখানেই শেষ নয়। হাসপাতালে রোগী আসা থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত সবখানেই চলে বাণিজ্য।

এই বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা। সরেজমিন দেখা গেছে, রোগীদের জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে পৌঁছে দিয়েই টাকা দাবি করেন আয়ারা। না দিলে দুর্ব্যবহার করেন। আবার কয়েকজন আয়াতো রোগী হুইলচেয়ারে বসতেই স্বজনদের জানিয়ে দেন- ৫০ টাকা দিতে হবে, ১০০ টাকা দিতে হবে! শান্তি নেই ওয়ার্ডেও।

এখানে কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনে চিকিৎসার অগ্রগতি না হওয়ার। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন আমেনা বেগম। ১৫ দিন ধরে হাসপাতালের ২৯নং বেডে পড়ে থাকলেও তাঁর চিকিৎসার কোনো অগ্রগতি নেই। আমেনার ছেলে হৃদয় সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, টাকা না দেওয়ায় দারোয়ান আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। ডাক্তারের সঙ্গে কথাও বলতে পারছিনা। নার্সরা এসে আমার মাকে দেখে চলে গেছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাতেগোনা কয়েকটি ওয়ার্ড ছাড়া প্রায় সব ওয়ার্ডেই শয্যাসংখ্যার চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি রোগী রয়েছেন। যাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এর মধ্যে নিউরোসার্জারি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক বিভাগেও রোগীর ভীষণ চাপ। আবার বার্ন ইউনিটে রোগীরা অভিযোগ করেন, এখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।

হাসপাতালের অনেক সিটের বেডের অবস্থা খুবই খারাপ। এসব বেড ছেঁড়া এবং অপরিচ্ছন্ন। প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীর পাশাপাশি শিশুদেরও রাখা হচ্ছে এসব বেডে! এদিকে হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগেও দেখা গেছে অনিয়ম। দুস্থ রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

আর দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের হাতে টাকা দিয়ে লাইন ছাড়াই প্যাথলজি টেস্ট করানোর ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছেন অন্যরা। তবে ডাক্তাদের অনুরোধে কয়েকজন রোগীকে দেখা গেল লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া পরীক্ষা করাতে। সবচেয়ে বাজে অবস্থা দেখা গেছে হাসপাতালের বাথরুমের।

প্রায় সব বাথরুমই নোংরা, দুর্গন্ধময়। এখানে বেশি অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে নারী রোগীদের। কারণ খোলা বাথরুমেই তাদের সারতে হয় গোসল। আর এ স্থান দিয়ে নারীদের পাশাপাশি চলাফেরা করছে পুরুষ রোগীরাও!

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, যে বেডগুলো খারাপ আবস্থায় আছে সেগুলো আমরা পরিবর্তন করবো। একইসঙ্গে আরো যেসব সমস্যা আছে সেগুলোও আমরা দেখব। আর যারা রোগীদের থেকে টাকা নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেবার বিপরীতে কোন ধরনের অনিয়ম প্রশ্রয় দেয়া হবেনা বলে মন্তব্য করেন ডা: আখতারুল ইসলাম।

দৈনিক বরিশাল ২৪

সেবার বিপরীতে অনিয়ম, প্রশ্রয় দেবেনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কতৃপক্ষ

সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯ ৭:০৮ অপরাহ্ণ
৬৪

আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড। সময় দুপুর বারটা। ওয়ার্ডের গেইটে তালা ঝুলছে। ভেতরে প্রবেশের জন্য দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন রোগীর স্বজন। কিন্তু কঠোর অবস্থানে সিকিউরিটি গার্ড।

এখন ভেতরে যাওয়ার নিয়ম নেই- সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি। তবে কঠিন হৃদয়ের এই মানুষটাই কিছুক্ষণের মধ্যে হয়ে গেলেন একবারে সরল! পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি তার হাতের মধ্যে কিছু টাকা গুজে দিয়েই ঢুকে গেলেন ভেতরে।

বোঝার বাকি রইল না, তার এই কঠোরতা কিংবা নিয়মের বিষয়টি সবার জন্য নয়। শুধু ২৮ নম্বর ওয়ার্ড নয়, প্রায় সব ওয়ার্ডেই চলছে এ অনিয়ম। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীর সঙ্গে দেখা করতে হলে স্বজনদের আসতে হয় নির্দিষ্ট সময়ে।

এ সময়ের আগে-পরে স্বজনদের ওয়ার্ডে যাওয়ার নিয়ম নেই। আর এটিকেই পুঁজি করে রমরমা বাণিজ্য করছে ওয়ার্ডের গেইটে দায়িত্বরতরা। বাণিজ্যের এখানেই শেষ নয়। হাসপাতালে রোগী আসা থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত সবখানেই চলে বাণিজ্য।

এই বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা। সরেজমিন দেখা গেছে, রোগীদের জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে পৌঁছে দিয়েই টাকা দাবি করেন আয়ারা। না দিলে দুর্ব্যবহার করেন। আবার কয়েকজন আয়াতো রোগী হুইলচেয়ারে বসতেই স্বজনদের জানিয়ে দেন- ৫০ টাকা দিতে হবে, ১০০ টাকা দিতে হবে! শান্তি নেই ওয়ার্ডেও।

এখানে কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনে চিকিৎসার অগ্রগতি না হওয়ার। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন আমেনা বেগম। ১৫ দিন ধরে হাসপাতালের ২৯নং বেডে পড়ে থাকলেও তাঁর চিকিৎসার কোনো অগ্রগতি নেই। আমেনার ছেলে হৃদয় সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, টাকা না দেওয়ায় দারোয়ান আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। ডাক্তারের সঙ্গে কথাও বলতে পারছিনা। নার্সরা এসে আমার মাকে দেখে চলে গেছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাতেগোনা কয়েকটি ওয়ার্ড ছাড়া প্রায় সব ওয়ার্ডেই শয্যাসংখ্যার চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি রোগী রয়েছেন। যাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এর মধ্যে নিউরোসার্জারি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক বিভাগেও রোগীর ভীষণ চাপ। আবার বার্ন ইউনিটে রোগীরা অভিযোগ করেন, এখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।

হাসপাতালের অনেক সিটের বেডের অবস্থা খুবই খারাপ। এসব বেড ছেঁড়া এবং অপরিচ্ছন্ন। প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীর পাশাপাশি শিশুদেরও রাখা হচ্ছে এসব বেডে! এদিকে হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগেও দেখা গেছে অনিয়ম। দুস্থ রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

আর দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের হাতে টাকা দিয়ে লাইন ছাড়াই প্যাথলজি টেস্ট করানোর ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছেন অন্যরা। তবে ডাক্তাদের অনুরোধে কয়েকজন রোগীকে দেখা গেল লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া পরীক্ষা করাতে। সবচেয়ে বাজে অবস্থা দেখা গেছে হাসপাতালের বাথরুমের।

প্রায় সব বাথরুমই নোংরা, দুর্গন্ধময়। এখানে বেশি অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে নারী রোগীদের। কারণ খোলা বাথরুমেই তাদের সারতে হয় গোসল। আর এ স্থান দিয়ে নারীদের পাশাপাশি চলাফেরা করছে পুরুষ রোগীরাও!

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, যে বেডগুলো খারাপ আবস্থায় আছে সেগুলো আমরা পরিবর্তন করবো। একইসঙ্গে আরো যেসব সমস্যা আছে সেগুলোও আমরা দেখব। আর যারা রোগীদের থেকে টাকা নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেবার বিপরীতে কোন ধরনের অনিয়ম প্রশ্রয় দেয়া হবেনা বলে মন্তব্য করেন ডা: আখতারুল ইসলাম।

প্রকাশক: মোসাম্মাৎ মনোয়ারা বেগম। সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা। সম্পাদক : শামিম আহমেদ যুগ্ন-সম্পাদক : মো:মনিরুজ্জামান। প্রধান উপদেষ্টা: মোসাম্মৎ তাহমিনা খান বার্তা সম্পাদক : মো: শহিদুল ইসলাম ।
প্রধান কার্যালয় : রশিদ প্লাজা,৪র্থ তলা,সদর রোড,বরিশাল।
সম্পাদক: 01711970223 বার্তা বিভাগ: 01764- 631157
ইমেল: sohelahamed2447@gmail.com
  ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা: প্রধানমন্ত্রী   ৭ নভেম্বর: বাংলাদেশের নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার দিন   বরিশালের জনপ্রিয় কবি ফরিদ উদ্দিনের ‘চন্দ্রদ্বীপ’   মেয়েদের জমি লিখে দেওয়ায় ৮০ বছরের বৃদ্ধের ঘরে তালা   ছেলেদের স্পর্শে আপত্তি, মেয়েদের ক্ষেত্রে ছাড়? সামাজিক বৈষম্যের চিত্র   এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন   সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের রাস্তায় পেলে গ্রেপ্তার উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে : ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী   এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, শুরু হতে পারে ২ ডিসেম্বর   বরিশাল প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য পদ পেলেন ১১ সাংবাদিক   হালিশহর মডেল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতি জাকের হোসেন সম্পাদক আশ্রাফ আলী   বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনই শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন বই: শিক্ষামন্ত্রী   বরিশালে যুবদলের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসুচি অনুষ্ঠিত   বরিশালে বাসচাপায় কাতার প্রবাসী নিহত   বর্ণিল আয়োজনে চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত   ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু   ‘এই জার্সিটাই ছিল আমার জীবন, এত ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ’   কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে রাজনীতিবীদদের ইতিবাচক ভুমিকা জরুরী   বরিশালে শ্রমিকদল নেতা রাজ্জাক সরদার আর নেই, শোকে স্তব্ধ ২নং কাশিপুর   রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী   বাঁশির সুরে তুমুল জনপ্রিয় শেখ সোলায়মান এবার নিয়ে এলেন ‘মানব জীবন’