আগৈলঝাড়ার দধি-মিষ্টির সুনাম দেশজুড়ে, ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন সহযোগীতা
শামীম আহমেদ: জীবন জিবীকার তাগিদে দধি-মিষ্টি তৈরী করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামের সুদক্ষ কারিগররা। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও এ পেশাকে ধরে রেখেছেন তারা।
দেশের ঐতিহ্য গৈলার দধি-মিষ্টি জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে ক্ষ্যতি অর্জন করেছে। ভোজন বিলাসী মানুষের কাছে গৈলার দধি-মিষ্টি ছাড়া ভোজন রসনা যেন অসমাপ্ত রয়ে যায়। ঐতিহ্যগত কারনেই ক্রেতা সাধারনের কাছে লোভনীয় সামগ্রী।
চাহিদার সাথে সাথে উপজেলার কিছু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে গুনগত মান খারাপ করে থাকে। তারই মধ্যে সুনামকে ধরে রাখতে অধিক মুনাফার কথা চিন্তা না করে গৈলার ঐতিহ্যগত ভাবে দধি-মিষ্টি তৈরী করে
আসছে ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে ভাল জিনিস তৈরীকরা খুবই কষ্টকর। কথাগুলো বলেছিলেন, বংশগত ভাবে দধি-মিষ্টি তৈরীর পেশায় আসা এবং ৩০ বছর ধরে সুনামের সহিত ব্যবসা পরিচালনাকারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গৈলা বাজারের শ্রী দূর্গা মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্তাধিকারী গোসাই দাস।
গৈলার ঐতিহ্য দধি, মিষ্টি, ঘি’র সুনাম শুধু বাংলাদেশেই নয় বর্হিবিশ্বেও এর কদর রয়েছে। বহুকাল থেকে দধি, মিষ্টি, ঘি’র জন্য এ উপজেলা বিখ্যাত। সারাদেশে গৈলার দধি, মিষ্টি, ঘি’র যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
বিবাহ অনুষ্ঠান, বৌ-ভাত, জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দধি-মিষ্টির জন্য দুর-দুরান্ত থেকে লোকজন আসেন গৈলাতে। প্রতিদিন শত শত মন দধি, মিষ্টি এখান থেকে ঢাকা-বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনা, মাদারীপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
দেশের বাইরেও ব্যাপক ভাবে গৈলার দধি- মিষ্টি, ঘি’র সুনাম রয়েছে। গৈলার দধির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ৫/১০ দিনেও স্বাভাবিক আবহাওয়ায় নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা নেই। যে কোন যানবাহনে সহজে বহন করা যায়। শুকনো
মিষ্টি কয়েকদিনেও নষ্ট হয় না। ঘিও নষ্ট হয়না।
বর্তমানে ১৫ প্রকারের মিষ্টান্ন দ্রব্য তৈরী করা হয় বলে জানান এখানকার ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমানে ১৫ প্রকারের মিষ্টান্ন দ্রব্যর মধ্যে রয়েছে দধি, চমচম, কালোজাম, শুকনো মিষ্টি, বড় রসগোল্লা, রসমালাই, ছানার সন্দেশ, খিরপুরী, মাওয়া, ছানার জিলাপি উল্লেখযোগ্য।
তারা জানান, সরকারী বা বেসরকারী ভাবে কোন সহযোগীতা পাচ্ছেন না দধি-মিষ্টি প্রস্তুতকারীরা। ব্যবসায়ীরা
চরাদামে দুধ ক্রয় করে, বিদ্যুৎবিল, লাকড়ি খরিদ, কর্মচারীদের বেতন, টালীসহ বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয় করে তাদের ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান,গৈলার ঐতিহ্যবাহী দধি, মিষ্টি, ঘি’র ঐতিহ্য ধরে রেখে ব্যবাবসায়ীদের জন্য সহজ
শর্তে ঋণ বিতরণ করা, দুধের বাজার, ডেইরী ফার্ম স্থাপন এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।












