দৈনিক বরিশাল ২৪চরফ্যাশনে ডায়াগনস্টিক থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগ | দৈনিক বরিশাল ২৪

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ০১, ২০১৯ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
A- A A+ Print

চরফ্যাশনে ডায়াগনস্টিক থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি ঃচরফ্যাশনে নবজাতক চুরি অভিযোগে দুই চিকিৎসকসহ সেবা ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সার্ভিসেস এর সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে আসামী করে চরফ্যাশন থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে চরফ্যাশন উপজেলার আবু বকরপুর সাকিনের মো. সবুজের স্ত্রী প্রসূতি কুলসুম বেগম বাদি হয়ে এজাহারটি দাখিল করেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ২ কর্মচারীকে থানায় নিয়ে গেছেন। প্রসূতি কুলসুম বেগম অভিযোগ করেন, গত ৭ অক্টোবর চরফ্যাশন সদরের হাসপাতাল রোডে মেঘনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. আবদুল্লাহ আল কাফির মাধ্যমে আল্টা স্নোগ্রাম পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, তার গর্ভে দু’টি সন্তান রয়েছে এবং সন্তানরা সুস্থ্য আছে। ওই রিপোর্টে ১৮ নভেম্বরের ১৪দিন আগে বা পরে প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়। গত ২০ নভেম্বর প্রসব ব্যাথ্যা শুরু হলে তিনি চরফ্যাশন সদরের সেবা ডায়াগনষ্টিক মেডিকেল সার্ভিসের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. নাইমা ইসলাম মীরার শরনাপন্ন হন। ডা. নাইমা ইসলাম মীরা তাকে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারে ভর্তি এবং সিজারের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ও তত্বাবধানে ২০ নভেম্বর সকাল সারে ১১টায় সেবা ডায়াগনস্টিকে ভর্তি হন এবং দিবাগত রাত ২টায় কুলসুম বেগমকে সিজারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেয়া হয়। কুলসুম বেগম দাবী করেন, ডা. নাইমা ইসলাম মীরার নেতৃত্বে সিজার করে আসামীরা তার গর্ভে থেকে দু’টি বাচ্চা বের করে আনেন এবং বাচ্চা দু’টির কান্না তিনি স্পষ্ট শুনতে পান। এসময় আসামীরা একে অপরের সাথে বলাবলি করে বাচ্চা দু’টির মধ্যে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে। সিজারের সময় রোগীর স্বজনদের ওটি রুমের সামনে থাকতে না দিয়ে দ্বিতীয় তলার ৪নং কক্ষে থাকতে বাধ্য করা হয়। সিজার শেষে প্রসূতিকে ওটি থেকে তার নামে বরাদ্দকৃত দ্বিতীয় তলার ৪নং কক্ষে নেয়া হলে স্বজনরা প্রসূতিকে একটি মেয়ে সন্তান তুলে দেয়। অপর সন্তান কোথায় জানতে চাইলে স্বজনরা একটি সন্তানই তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানায়। পূর্বের রিপোর্ট অনুযায়ী তার গর্ভে দু’টি সন্তান ছিল এবং অপর সন্তান কোথায় এমন প্রশ্ন তোলায় সেবা ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সার্ভিসের চিকিৎসক ও স্টাফরা তার সাথে খারাপ আচরণ করেন। ঘটনার সময় তার স্বামী সবুজ ঢাকায় ছিলেন। স্বামী ঢাকা থেকে এসে অপরাপর চিকিৎসকদের সাথে পূর্বেকার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সেবা ডায়াগনস্টিকমেডিকেল সার্ভিসের কর্তৃপক্ষের শরনাপন্ন হলে তার সাথেও অশোভন আচরণ করা হয়। ফলে শনিবার প্রসূতি বাদি হয়ে চিকিৎসকসহ ৯জনকে আসামী করে চরফ্যাশন থানায় এজাহার দাখিল করেন। এজাহারে উল্লেখিত আসামীরা হচ্ছেন, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. নাইমা ইসলাম মীরা, সেবা ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সার্ভিসের মালিক মো. শাহজাহান,এ্যানেস্থেসিয়া ডা. নাহিদ, ওটি ইনচার্জ মো. রবিন, ম্যানেজার মো. মঞ্জু, নার্স সেলিনা বেগম, আয়া ফাহিমা বেগম, স্টাফ নাহার বেগম, পিয়ন মোশারফ। অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. নাইমা ইসলাম মীরা বলেছেন, রিপোর্টে দু’টি কিন্ত গর্ভে একটি সন্তানই ছিল। প্রসূতির মা ও ভাইকে ওটিতে নিয়ে একটি সন্তান দেখিয়ে নিশ্চিত করে গর্ভ থেকে সন্তান তোলা হয়েছে। চরফ্যাশন থানার ওসি তদন্ত কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বাদির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামীদের থানায় ডাকা হয়েছে। গাইনি ডাক্তার মীরার সনদ সঠিক নয় বলেও তিনি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তবে সেবা ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সার্ভিসের ওটি ইনচার্জ রবিন নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিয়ন মোশারফ এবং নার্স সেলিনাকে থানায় নিয়ে গেছেন। চরফ্যাশন থানার ওসি শামসুল আরেফীন জানান, আটককৃতরা এজাহারভুক্ত আসামী হলে তারা ছাড়া পাবেনা।

 বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডট কম

চরফ্যাশনে ডায়াগনস্টিক থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগ

রবিবার, ডিসেম্বর ১, ২০১৯ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ভোলা প্রতিনিধি ঃচরফ্যাশনে নবজাতক চুরি অভিযোগে দুই চিকিৎসকসহ সেবা ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সার্ভিসেস এর সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে আসামী করে চরফ্যাশন থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে চরফ্যাশন উপজেলার আবু বকরপুর সাকিনের মো. সবুজের স্ত্রী প্রসূতি কুলসুম বেগম বাদি হয়ে এজাহারটি দাখিল করেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ২ কর্মচারীকে থানায় নিয়ে গেছেন। প্রসূতি কুলসুম বেগম অভিযোগ করেন, গত ৭ অক্টোবর চরফ্যাশন সদরের হাসপাতাল রোডে মেঘনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. আবদুল্লাহ আল কাফির মাধ্যমে আল্টা স্নোগ্রাম পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, তার গর্ভে দু’টি সন্তান রয়েছে এবং সন্তানরা সুস্থ্য আছে। ওই রিপোর্টে ১৮ নভেম্বরের ১৪দিন আগে বা পরে প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়। গত ২০ নভেম্বর প্রসব ব্যাথ্যা শুরু হলে তিনি চরফ্যাশন সদরের সেবা ডায়াগনষ্টিক মেডিকেল সার্ভিসের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. নাইমা ইসলাম মীরার শরনাপন্ন হন। ডা. নাইমা ইসলাম মীরা তাকে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারে ভর্তি এবং সিজারের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ও তত্বাবধানে ২০ নভেম্বর সকাল সারে ১১টায় সেবা ডায়াগনস্টিকে ভর্তি হন এবং দিবাগত রাত ২টায় কুলসুম বেগমকে সিজারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেয়া হয়। কুলসুম বেগম দাবী করেন, ডা. নাইমা ইসলাম মীরার নেতৃত্বে সিজার করে আসামীরা তার গর্ভে থেকে দু’টি বাচ্চা বের করে আনেন এবং বাচ্চা দু’টির কান্না তিনি স্পষ্ট শুনতে পান। এসময় আসামীরা একে অপরের সাথে বলাবলি করে বাচ্চা দু’টির মধ্যে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে। সিজারের সময় রোগীর স্বজনদের ওটি রুমের সামনে থাকতে না দিয়ে দ্বিতীয় তলার ৪নং কক্ষে থাকতে বাধ্য করা হয়। সিজার শেষে প্রসূতিকে ওটি থেকে তার নামে বরাদ্দকৃত দ্বিতীয় তলার ৪নং কক্ষে নেয়া হলে স্বজনরা প্রসূতিকে একটি মেয়ে সন্তান তুলে দেয়। অপর সন্তান কোথায় জানতে চাইলে স্বজনরা একটি সন্তানই তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানায়। পূর্বের রিপোর্ট অনুযায়ী তার গর্ভে দু’টি সন্তান ছিল এবং অপর সন্তান কোথায় এমন প্রশ্ন তোলায় সেবা ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সার্ভিসের চিকিৎসক ও স্টাফরা তার সাথে খারাপ আচরণ করেন। ঘটনার সময় তার স্বামী সবুজ ঢাকায় ছিলেন। স্বামী ঢাকা থেকে এসে অপরাপর চিকিৎসকদের সাথে পূর্বেকার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সেবা ডায়াগনস্টিকমেডিকেল সার্ভিসের কর্তৃপক্ষের শরনাপন্ন হলে তার সাথেও অশোভন আচরণ করা হয়। ফলে শনিবার প্রসূতি বাদি হয়ে চিকিৎসকসহ ৯জনকে আসামী করে চরফ্যাশন থানায় এজাহার দাখিল করেন। এজাহারে উল্লেখিত আসামীরা হচ্ছেন, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. নাইমা ইসলাম মীরা, সেবা ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সার্ভিসের মালিক মো. শাহজাহান,এ্যানেস্থেসিয়া ডা. নাহিদ, ওটি ইনচার্জ মো. রবিন, ম্যানেজার মো. মঞ্জু, নার্স সেলিনা বেগম, আয়া ফাহিমা বেগম, স্টাফ নাহার বেগম, পিয়ন মোশারফ। অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. নাইমা ইসলাম মীরা বলেছেন, রিপোর্টে দু’টি কিন্ত গর্ভে একটি সন্তানই ছিল। প্রসূতির মা ও ভাইকে ওটিতে নিয়ে একটি সন্তান দেখিয়ে নিশ্চিত করে গর্ভ থেকে সন্তান তোলা হয়েছে। চরফ্যাশন থানার ওসি তদন্ত কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বাদির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামীদের থানায় ডাকা হয়েছে। গাইনি ডাক্তার মীরার সনদ সঠিক নয় বলেও তিনি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তবে সেবা ডায়াগনস্টিক মেডিকেল সার্ভিসের ওটি ইনচার্জ রবিন নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিয়ন মোশারফ এবং নার্স সেলিনাকে থানায় নিয়ে গেছেন। চরফ্যাশন থানার ওসি শামসুল আরেফীন জানান, আটককৃতরা এজাহারভুক্ত আসামী হলে তারা ছাড়া পাবেনা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : খন্দকার রাকিব ।
ফকির বাড়ি, ৫৫৪৫৪ বরিশাল।
মোবাইল: ০১৭২২৩৩৬০২১
ইমেইল : rakibulbsl@gmail.com, barisalcrimenews@gmail.com
  চিংড়িতে করোনা শনাক্ত, আমদানি নিষিদ্ধ করল চীন   যে হাসপাতালে ভর্তিতে টাকা লাগে না, লাগে না কোন তদ্বির   সীতাকুন্ডে বেহাল দশা সড়কের,মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রী সাধারণ   বাকেরগঞ্জে নদীতে কম উচ্চতার সেতু নির্মাণ, বন্ধ হবে নৌযান চলাচল   শিক্ষার্থীদের ‘অটো প্রমোশনের’ খবর গুজব   বরিশালে ছাদ কৃষিতে চমক দেখালেন ডিসি খায়রুল আলোমের স্ত্রী দিলরুবা   ভোলায় ক্যান্সারে আক্রান্ত চঞ্চলের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও জমি দখলের চেষ্টা   চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ র‍্যাব ডিবি ব্যাংকার ডাক্তারসহ ৩৫ জন আক্রান্ত    সত্য হলো শাহেদের কথা, ছাড় পেলেন না তিনিও   উখিয়ায় বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত-৩ অস্ত্রসহ তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার     ভোলা চরফ্যাসনে সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্য   বরিশালে র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার   চট্টগ্রামে ডালের প্যাকেটে পোকা, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা   বরিশালে নতুন শনাক্ত ৩০, করোনা থেকে সুস্থ ৩০ জন   অন্যের উপকারে মরনেও সুখ!   হাফিজিয়া মাদ্রাসা খোলার অনুমতি   করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স দিলেন সাকিব   চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে বাটপাড় কেন টকশোতে আনে?   করোনাজয়ী বীর পুলিশ যোদ্ধাদের প্লাজমা দেয়ার আহবান জানালেন বিএমপি কমিশনার   তৈরী হলো না এন্ড্রু কিশোরের ‘প্রার্থনা কুঞ্জ’