টানেলকে ঘিরে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান
আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গামুখী দ্বিতীয় টিউব
আনোয়ারা প্রান্তে দুটি টিউবের মুখের (সংযোগস্থল) কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে ওঠানামার সড়কটির প্রায় ১০০ মিটার পাকা করা হয়েছে। সড়কের দুপাশে ও টানেলের বাইরের অংশে ৮ থেকে ১০ ফুটের বেশি উঁচু প্রতিরক্ষাদেয়াল দেওয়া হয়েছে।
পতেঙ্গা থেকে আসা প্রথম টিউবের শেষ অংশটি প্রবেশমুখের সঙ্গে সংযুক্ত হয়নি। ওই টিউবের আনোয়ারা প্রান্তের শুরুতে ট্যাংক স্থাপন করে টানেলে সরবরাহ করার জন্য পানি ফিল্টারিং করা হচ্ছে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, আনোয়ারা প্রান্ত থেকে বোরিং মেশিন দিয়ে দিনরাত সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চলছে। এটি মিলিত হবে পতেঙ্গা প্রান্তে।
সম্প্রসারিত হচ্ছে পিএবি সড়ক
টানেলের সংযোগ সড়ক যে পিএবি (পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী) সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সেটি দুই লেনের। গাড়ির চাপে প্রায় সময় সেখানে জট লেগে থাকে। এতে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এখন সে সড়ক সম্প্রসারণ করে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী থেকে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এনডিই।
গত বুধবার সকালে সড়ক ধরে যাওয়ার সময় দেখা যায়, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য কোথাও এক পাশ খনন করে রাখা হয়েছে। কোথাও বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একের পর এক ট্রাক এসে খনন করা অংশে বালু ফেলছে। একই সঙ্গে কালভার্টের কাজও চলছে সমানতালে। আবার সড়ক সম্প্রসারণের জন্য দুই পাশের অনেক গাছ কাটা হয়েছে। আরও গাছ কাটার প্রস্তুতি চলছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজের গতি কিছুটা কম। তারপরও যতটুকু করা সম্ভব, তা করা হচ্ছে।
সড়ক সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে সড়কের দুই পাশের জায়গার মূল্যও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনেও দেখা যায়, সড়কের পাশে কিছু কিছু এলাকায় জায়গার মালিকানা উল্লেখ করে ফলক লাগানো হয়েছে। সড়কের বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় ইট দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। কেউ কেউ নির্মাণ করছেন ভবন।
উপজেলার শাহ মিরপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, সড়ক অপ্রশস্ত হওয়ায় যানজট লেগে থাকে। সড়ক বড় হলে যাতায়াতের দুর্ভোগ আর থাকবে না।
মোহাম্মদপুর এলাকায় কথা হয় আনোয়ারার বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, টানেল চালু হলে আনোয়ারার চেহারা পাল্টে যাবে। যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। নতুন নতুন শিল্পকারখানা হবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থানও বাড়বে।
তবে একটি আশঙ্কার কথা জানালেন এই জনপ্রতিনিধি। তিনি বলেন, টানেল চালু হলে আনোয়ারায় মানুষের বসবাসের চাপ বেড়ে যাবে। তাই এখন থেকে পয়োনালা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।সূত্রঃ প্রথমআলো।












