সরঞ্জামসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত চরফ্যাশনের মৎস হ্যাচারি
সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন (ভোলা) :রুই জাতীয় সাদা মাছের রেনু ও পোনা সরবরাহ এবং মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৯৯২ সালে ২একর ১৮শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় চরফ্যাশন উপজেলাধীন কর্তারহাট মিনি হ্যাচারী কমপ্লেক্স।
দির্ঘ ১৮ বছর যাবত জনবল, পানি সংকট ও আধুনিক সরঞ্জামাদি না থাকায় মৎস প্রজনন এবং মাছের রেনুসহ পোনা উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে।
২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে হ্যাচারীটিতে ২টি ব্রুট পুকুর ও ১টি নার্সারি পুকুরসহ মোট ৫টি পুকুর থাকলেও পানি সংকট ও পানিতে সূর্যের অধিক তাপমাত্রার জন্য মাছের শতশত রেনু ও ব্রুট মাছ মারা যাচ্ছে। ওভারহেড টেঙ্কটি জরাজির্ন হয়ে পড়ে আছে সেই সাথে গার্ডসেড, সার্কুলার টেঙ্ক ও ব্রিডিং টেঙ্কসহ সাবমার্সিবল পাম্পটিও কয়েক বছর ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাজ করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।
পুকুর পারের পুরোনো রিটেইনিং ওয়াল ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে এছাড়াও হ্যাচারিটি মহাসড়কের পাশে হওয়ার পরেও যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির বেহাল দশা দেখা দিয়েছে।
বেসরকারিভাবে হ্যাচারিটি দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা মোঃ মোতাহার হোসেন (৫৭) বলেন, দির্ঘ ১৬ বছর যাবত প্রতিমাসে ৫শ টাকা করে আমাকে বেতন দেওয়া হয় যা দিয়ে আমার সংসার চালানো সম্ভব হয়না।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, এখানে ২০০১ সাল পর্যন্ত একজন হ্যাচারি এটেন্ডেন্স ছিল কিন্তু দির্ঘ ১৮ বছর ধরে এখানে কোনো জনবল নেই, আমরা ঊর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বারবার চিঠি দিয়েছি কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনোও সাড়া মিলছেনা।
তবে মোতাহার হোসেনকে আমরা প্রতি বছর শ্রমিক বেতন বাবদ প্রতি মাসে ১হাজার টাকা করে বছরে ১২হ্ধাসঢ়;জার টাকা দেই। তিনি আরোও বলেন, আমাদের ব্রুট মাছগুলো ডিম দেওয়ার পরে ওই মাছগুলোর শরির গরম থাকে তখন সেই মাছগুলোকে ঠান্ডা পানিতে রাখতে হয় কিন্তু আবহাওয়া ও জলবায়ু সমস্যার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এবং সাবমার্সিবল পাম্প ও ওভারহেড টেঙ্ক নষ্ট হওয়ায় আমাদের অনেক ব্রুট মাছ
মারা গেছে।
সেই সাথে রিটেইনিং ওয়ালটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার আমাদের লক্ষ লক্ষ টাকার টার্গেট ও বরাদ্দ দেয় কিন্তু জনবল ও বিভিন্ন সরঞ্জামের অভাবে আমাদের লখ্যমাত্রা পুরোন অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে যদি না এ হ্যাচারিটিকে আধুনিকায়ন না করা হয়।












